Tuesday, May 18, 2021

একজন লেখকের অপমান


কুলদা রায়
----------------

সাগুফতা শারমীন তানিয়া বাংলাদেশের অন্যতম মেজর কথাসাহিত্যিক। তাঁর গল্পভাষা সুন্দর। ইংরেজি থেকে তাঁর অনুবাদের হাতটিও ভালো। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী।

তিনি আন্তনিও স্কারমেতার দি পোস্টম্যান উপন্যাসটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন। প্রকাশ করেছে প্রথমা। বইটি পড়ে কবি অনুবাদক রাজু আলাউদ্দিন ১৪ মে, ২০২১ শুক্রবার ফেসবুকে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি সাগুফতা শারমীন তানিয়ার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ আনেন--

ক. 
তানিয়া কোন ভাষা থেকে অনুবাদ করেছেন তা জানাননি। এবং যে বিদেশী অনুবাদকের লেখা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদটি করেছেন তার নাম উল্লেখ না করে জোচ্চুরি করেছেন।

খ. 
তানিয়ার বাংলা অনুবাদ হচ্ছে যাচ্ছে তাই ধরনের খারাপ। তানিয়া ব্যাকরণ সম্মতভাবে বাংলা ভাষা লিখতে জানেন না। অনুবাদের মূল মর্মটা ধরতে পারেন না। আক্ষরিক অনুবাদ করে মূল লেখাকে মাটি করে দিয়েছেন।

Friday, September 27, 2019

আমার মহালয়া

পূজা মানেই হল আমাদের মহালয়া।

কবে দুর্গা পূজা সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা ছিল না। শুধু হিসেব করা হত কোন ভোরে মহালয়াটি হবে। সে জন্য আমাদের কিছু প্রস্তুতি ছিল। সেটা শুরু হত আমাদের দূর সম্পর্কের জেঠী কালিপদর মার তরফ থেকে। ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি তিনি দুটো পাকা তাল নিয়ে আসতেন আমাদের বাড়ি। এসে আমার মাকে শুধাতেন খোকার বাবা কখন ফিরবে কাজ থেকে। বাবা ফিরতে ফিরতে রাত দশটা। সে অবধি কালিপদর মা আমাদের রান্না ঘরের বারান্দায় বসে থাকতেন। মাঝে মাঝে পান তামুক মুখে দিতেন। দুটো ডাল-ভাত খেতেন। তারপর বাবা ফিরলে তাগিদ দিয়ে বলতেন, ময়ালয়া কিন্তু চালাইও বাপধন। ভুইল্যা যাইয়োও না।

বাবা ভুলতেন না। কিছুদিন ধরেই আমাদের ভাঙ্গা রেডিওটা কাউকে ধরতে দিতেন না। ওটা গুড়াগাড়া কেউ ধরলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই ব্যাপারে আমাদের ঠাকুরদাও বেশ সতর্ক থাকেন। আমাদের রেডিওর উপর চাপ কমাতে এই সময় বাইরে থেকে তিনি আকাশবানী শুনে আসতেন।

আর বাবা কাজ থেকে ফিরে নিয়মিত রেডিওর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেন। কখনো একটু জোরে—কখনো একটু আস্তে করে ভলিউম বাড়ানো কমানো করতেন। পিছনের স্ক্রু খুলে ঝাড়া-মোছা করতেন। আবার মোড়ের নিখিল মিস্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে একটু সারাই করে আনতেন। কোনো ভাবেই যেন মহালয়ার দিনে রেডিওটা বিগড়ে না যায়। মহালয়ার আগের দিন মা পাঁচ প্রকার শাক তুলে আনতেন। সেটা দিয়ে রাতে সুক্তো রাঁধা হত। আর করা হত সিঁয়োই পিঠে। আর হাড়ি ভরে হত দিঘা ধানের পান্তা ভাত।